অর্জুন উবাচ: এবং সততযুক্তা যে ভক্তাস্ত্বাং পর্যুপাসতে। যে চাপ্যক্ষরমব্যক্তং তেষাং কে যোগবিত্তমাঃ।।
বাংলা অর্থ
অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন—যারা সর্বদাই আমাতে নিষ্ঠাবান হয়ে সাকার বিগ্রহের উপাসনা করেন এবং যারা ইন্দ্রিয়াতীত অব্যক্ত নির্বিশেষ ব্রহ্মের উপাসনা করেন, এই দুই প্রকার যোগীর মধ্যে কারা শ্রেষ্ঠ?
শ্লোক ০২
সংস্কৃত
শ্রীভগবানুবাচ: ময্যাবেশ্য মনো যে মাং নিত্যযুক্তা উপাসতে। শ্রদ্ধয়া পরয়োপেতাস্তে মে যুক্ততমা মতাঃ।।
বাংলা অর্থ
শ্রীভগবান বললেন—যারা আমার সাকার রূপে মন স্থির করে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে সর্বদা আমার উপাসনা করেন, তাঁদেরই আমি শ্রেষ্ঠ যোগী বলে মনে করি।
শ্লোক ০৩
সংস্কৃত
যে ত্বক্ষরমনির্দেশ্যমব্যক্তং পর্যুপাসতে। সর্বত্রগচিন্ত্যঞ্চ কূটস্থমচলং ধ্রুবম্।।
বাংলা অর্থ
কিন্তু যাঁরা বাক্য ও মনের অতীত, অনির্দেশ্য, অব্যক্ত, সর্বব্যাপী, অচিন্ত্যনীয়, নির্বিকার, অচল ও শাশ্বত অক্ষরের উপাসনা করেন—
অবুঝের মতো অভ্যাস করার চেয়ে জ্ঞান লাভ করা ভালো; জ্ঞান অপেক্ষা ধ্যান শ্রেষ্ঠ; আর ধ্যান অপেক্ষা কর্মফল ত্যাগ শ্রেষ্ঠ, কারণ ত্যাগের মাধ্যমেই পরম শান্তি লাভ হয়।
যিনি অতি হর্ষিত হন না, দ্বেষ করেন না, শোক করেন না, আবার কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষাও করেন না এবং যিনি শুভ ও অশুভ উভয় প্রকার ফল ত্যাগ করেছেন, সেই ভক্তিমান ব্যক্তি আমার প্রিয়।
শ্লোক ১৮
সংস্কৃত
সমঃ শত্রৌ চ মিত্রে চ তথা মানাপমানয়োঃ। শীতোষ্ণসুখদুঃখেষু সমঃ সঙ্গবিবর্জিতঃ।।
বাংলা অর্থ
যিনি শত্রু ও মিত্রে সমভাবাপন্ন এবং সম্মান ও অপমানে নির্বিকার; যিনি শীত-উষ্ণ ও সুখ-দুঃখে অবিচলিত এবং আসক্তিহীন—
শ্লোক ১৯
সংস্কৃত
তুল্যনিন্দাস্তুতির্মৌনী সন্তুষ্টো যেন কেনচিৎ। অনিকেতঃ স্থিরমতির্ভক্তিমান্ মে প্রিয়ো নরঃ।।
বাংলা অর্থ
যিনি নিন্দা ও স্তুতিতে সমবুদ্ধি সম্পন্ন, মৌনব্রতধারী, যা পাওয়া যায় তাতেই সন্তুষ্ট, যাঁর কোনো নির্দিষ্ট গৃহ নেই এবং যাঁর বুদ্ধি আমাতে স্থির—সেই ভক্তিমান ব্যক্তিই আমার অতি প্রিয়।
শ্লোক ২০
সংস্কৃত
যে তু ধর্মামৃতমিদং যথোক্তং পর্যুপাসতে। শ্রদ্ধধানা মৎপরমা ভক্তাস্তেঽতীব মে প্রিয়াঃ।।
বাংলা অর্থ
কিন্তু যাঁরা এই বর্ণিত অমৃতময় ধর্মোপদেশ শ্রদ্ধার সাথে অনুসরণ করেন এবং আমাকেই পরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন, সেই ভক্তরা আমার অত্যন্ত প্রিয়।