শ্রীভগবান বললেন—হে অর্জুন! এই সংকটপূর্ণ সময়ে কেন তোমার মধ্যে এই মোহ উপস্থিত হল? এই মোহ অনার্যজনোচিত, এতে স্বর্গের প্রাপ্তি হয় না এবং কেবল অযশই লাভ হয়।
মহানুভব গুরুজনদের হত্যা না করে এই জগতে ভিক্ষান্ন গ্রহণ করাও শ্রেয়। কারণ তাঁদের হত্যা করলে এই জগতেই তাঁদের রক্তমাখা অর্থ ও কামরূপ ভোগ উপভোগ করতে হবে।
শ্লোক ০৬
সংস্কৃত
ন চৈতদ্বিদ্মঃ কতরন্নো গরীয়ো যদ্বা জয়েম যদি বা নো জয়েয়ুঃ। যানেব হত্বা ন জিজীবিষাম-স্তেহবস্থিতাঃ প্রমুখে ধার্তরাষ্ট্রাঃ।।
বাংলা অর্থ
আমরা জানি না কোনটি আমাদের পক্ষে শ্রেয়—তাদের জয় করা না তাদের কাছে পরাজিত হওয়া। যাদের হত্যা করলে আমরা আর বাঁচতে চাই না, সেই ধৃতরাষ্ট্রের পুত্ররা আমাদের সামনে যুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।
কার্পণ্যজনিত দোষে আমার স্বভাব অভিভূত হয়েছে এবং ধর্ম বিষয়ে আমি মোহগ্রস্ত। তাই যা নিশ্চিতভাবে আমার পক্ষে মঙ্গলজনক, তা আমাকে বলুন। আমি আপনার শিষ্য, আপনার শরণাগত আমাকে উপদেশ দিন।
হে কৌন্তেয়! ইন্দ্রিয়ের সাথে বিষয়ের সংযোগের ফলেই শীত-উষ্ণ এবং সুখ-দুঃখের অনুভূতি হয়। সেগুলো ক্ষণস্থায়ী, আসে এবং যায়। হে ভারত! তুমি সেগুলো সহ্য করতে শেখো।
যিনি মনে করেন আত্মা কাউকে হত্যা করেন এবং যিনি মনে করেন আত্মা কারোর দ্বারা নিহত হন, তাঁরা উভয়েই সত্য জানেন না। কারণ আত্মা কাউকে হত্যা করেন না এবং নিহতও হন না।
শ্লোক ২০
সংস্কৃত
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিন্নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ। অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।।
বাংলা অর্থ
আত্মার কখনও জন্ম হয় না বা মৃত্যু হয় না। তিনি জন্মহীন, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাতন। শরীর নষ্ট হলেও আত্মা বিনষ্ট হন না।
অবিবেচক ব্যক্তিরা বেদের অর্থবাদ বাক্যে মুগ্ধ হয়ে এবং স্বর্গতুল্য ভোগকে পরম লক্ষ্য মনে করে শ্রুতিমধুর কথা বলে। তারা নানাবিধ যজ্ঞের মাধ্যমে কেবল ভোগ ও ঐশ্বর্য লাভ করতে চায়।
কূর্ম বা কচ্ছপ যেমন তার অঙ্গসমূহকে সংকুচিত করে নিজের ভেতর নিয়ে যায়, তেমনই যিনি ইন্দ্রিয়গুলোকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে গুটিয়ে নিতে পারেন, তাঁর প্রজ্ঞা সুপ্রতিষ্ঠিত।
নদীসমূহ যেমন সদা পূর্ণ ও স্থির সমুদ্রের কোন পরিবর্তন না ঘটিয়েই তাতে প্রবেশ করে, সমস্ত কামনা তেমন যাঁর ভেতর বিকার না ঘটিয়ে বিলীন হয়, তিনিই শান্তি পান; কামনাসক্ত ব্যক্তি নয়।